পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল

2

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তার পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেছেন। ৩ দিনের সফরে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে তার নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। সে মতেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ফ্লাইটের অল্প আগে আচমকা সফরটি বাতিল হয়ে যায়। ঢাকার তরফে এটি বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা প্রচার করা হয়নি। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল এমন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে দাবি করেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের আয়োজনসহ দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভবে মন্ত্রী মোমেন তার দিল্লি সফরটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছেন। তাছাড়া শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম এমপির মাদ্রিদ সফরে যাওয়া এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বর্তমানে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের শুনানি পর্যবেক্ষণে থাকার বিষয়টিও মন্ত্রীকে বিবেচনায় নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। জানুয়ারিতে মন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন এমনটাই  অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছে ঢাকা। তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দিল্লির সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত তাৎক্ষণিক খবরে সফর বাতিলের ভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ‘খানিক অস্বস্তি’র প্রেক্ষাপটে সফরটি হঠাৎ বাতিল হয়ে গেছে বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন। এই আইন নিয়ে এরইমধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সহিংসতা শুরু হয়েছে। বুধবার ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট  মিলারের সঙ্গে নিজ দপ্তরে বৈঠকের পর ওই আইন নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোমেন বলেছিলেন- ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটা সহনশীল দেশ, যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। সেখান থেকে পদস্খলন হলে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান দুর্বল হবে বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যে এ নিয়ে কতগুলো কথা উঠেছে, যার অনেকগুলো সত্য নয়। আমাদের দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অত্যন্ত বেশি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমাদের দেশে অন্য ধর্মের লোক কেউ নিপীড়িত নয়। বরং তারা অনেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সবাইকে একই দৃষ্টিতে দেখি। বাংলাদেশে কে কোন ধর্মের সেটা বিচার করা হয় না। বিচার করা হয় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি-না? এখানে সব ধর্মের লোকই সম্মানীয়। মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় বলে যে কথাটা এসেছে তা সত্য নয়। যারা এ নিয়ে ভারতকে তথ্য দিয়েছেন বা বুঝিয়েছেন, তারাও সত্যি কথা বলেননি। ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস হয়েছে। বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইএরএফ)  তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে বলেছে, বিলটিতে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেয়াটা বিপজ্জনক।