পদ্মা পাড়ের এক ইঞ্চি মাটিও ভাঙ্গতে দেবো না, দুর্নীতিবাজদের ছাড় নেই

3

মনির হোসেন, শরীয়তপুর (নড়িয়া) থেকে ফিরে

আগামী বর্ষার আগে পদ্মা পাড়ের আর এক ইঞ্চি মাটিও আমরা ভাঙ্গতে দেবো না। ইতিমধ্যে এই পাড় রক্ষায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রতিদিন ২০ হাজার করে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, আপনাদের সন্তান হিসাবে শরীয়তপুরে আমরা ৩ জন সংসদ সদস্য সুখে দু:খে সবসময় পাশে থাকবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও আপনাদের সাথে আছেন। আমি পানি সম্পদ উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথমেই পদ্মা পাড়ের ভাঙ্গন এলাকা সফর দিয়েই আমার কার্যক্রম শুরু করলাম। আমাদের আগমন উপলক্ষে কষ্ট করে উপস্থিত থাকার জন্য আমি আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুধু বলবো, নির্বাচনের আগে আমি যা বলেছিলাম, এখনও একই কথা বলছি। আমরা কাজ দিয়ে প্রমান করবো। আমরা আপনাদের পাশে আছি।

নড়িয়া-সখিপুরের কৃতি সন্তান এনামুল হক শামীম সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর গত রোববার তার নির্বাচনী এলাকা জন্মস্থান নড়িয়াতে প্রথম পা রেখে সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলোর উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার কর্মকর্তাদের সাথে বেড়িবাধ নির্মান ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এসময় শরীয়তপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কবীর বিন আনোয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে তার সফরসঙ্গী ঢাকার একদল সাংবাদিক ও সরকারী কর্মকর্তাকে নিয়ে সি বোর্ডে উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকায় নির্মিত বেড়িবাধে চলমান কাজের অগ্রগতি পবিদর্শন করেন। এসময় পদ্মা পাড়ে হাজার হাজার মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভীড় জমান।

পদœা নদীর ডান তীর প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রমত্তা পদ্মার স্্েরাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুলফতগঞ্জ বাজার ও এর আশপাশের এলাকা। এখানে থাকা বাজার, ৪তলা পাকা ভবন ছাড়াও বহুবাড়ি ঘর বিলিন হয়ে যায়। যার কারণে এই এলাকার মানুষের এখন বড় আতংকের নাম ভাঙ্গন। নদীতে দেখা যায় শ্রমিকদের শত শত বস্তা জিওব্যাগ ফেলতে। পদœায় বসতবাড়ি বিলিন হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা চা দোকানী ফজলু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, এখন আমরা যেখানে দাড়িয়ে আছি, এরথেকে এক কিলোমিটার দুরে আমাদের বাপদাদার জমিজমা ছিলো। ছিলো ঘরবাড়ি। এখন সবই পানির নীচে। তিনি বলেন, আমাগো শামীম ভাই মন্ত্রী হয়েছে। শুনে খুশী হয়েছি। এবার মনে হয় কিছু একটা হবে। জিওব্যাগ ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে কিছুটা হলেও আমরা আতংকমুক্ত থাকতে পারবো। তবে এটাও কতটুকু টেকসই হবে তা বর্ষার সময় এলেই বোঝা যাবে। কারণ প্রকৃতি বড়ই নিষ্ঠুর। তবে তিনি ভাঙ্গন পরবর্তী জেলা প্রশাসন থেকে দেয়া ঘরবাড়ি তোলার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা, টিন, খাদ্যদ্রব্য ও শীতবস্ত্র পেয়েছেন বলে জানান।

এদিকে নড়িয়ায় অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এনামুল হক শামীম বলেন, নড়িয়া-সখিপুরের মানুষের দেয়া বিপুল ভোটে আমি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আপনাদের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলবো না। জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করবো আপনাদের কষ্ট দুর করতে। তিনি বলেন, আমরা শরীয়তপুরের তিনজন সংসদ সদস্য এখানে আছি। তিন ভাই মিলে শরীয়তপুরের সর্বোচ্চ উন্নয়নটুকু করতে চাই। শরীয়তপুরে কোন মাদক, সন্ত্রাস, চাদাবাজী থাকবেনা । তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জামায়াত, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট চায় না। তারা তো রাজনীতি করে না। তারা করে তামাসা। বিএনপি, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশ দুর্র্নীতিতে ভরে যায়। দূনীতির দায়ে তারা জেলে থাকে। আর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ নিরাপদে থাকে। বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন হয়। মানুষ চায় পদ্মা সেতু হউক, কর্ণফুলী টানেল নির্মান হউক। অপর এক সভায় তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিকে এক নম্বরে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হয়েছে। আমি জানি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারী কেউ দুর্নীতির সাথে জড়িত না। আমি আশা করি, কাবিখা কাবিটা যেগুলো আসবে, সেগুলোর কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এমপি হিসাবে আমি যে ভাতা পাই, মন্ত্রী হিসাবে যে বেতন পাই সেখান থেকে আপনারা আমার কাছ থেকে কেরিং খরচ নিয়ে যাবেন। কিন্তু কেরিং খরচের নাম করে টিআর, কাবিখা-কাবিটা বেচা যাবে না। পরিস্কার বলে দিলাম, দুর্নীতি করে বাড়ি গাড়ি করবেন ? শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সেটা করা আর সম্ভব না। পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করা যাবে না। পুলিশ দিয়ে নড়িয়ার মানুষ অনেক নির্যাতিত হয়েছে। এখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মিলেমিশে থাকবো।নড়িয়া –সখিপুরের উন্নয়ন করবো।

অপরদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর পানি উন্নয়ন বোর্ড শরীয়তপুর (পওর ) বিভাগের তৈরী করা প্রকল্পের সার সংক্ষেপ সাংবাদিকদের হাতে দেন। সার সংক্ষেপে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে ২০২১ সাল। নড়িয়ার ৭.৯০ ও জাজিরা ১ কিলোমিটার মিলিয়ে মোট ৮.৯০ কিলোমিটার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৯৭.২০৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষনের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট হাট বাজার ফসলী জমিসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনা/সম্পদ নদী ভাঙ্গন হতে রক্ষা করা। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার কুন্ডেরচর, সুরেশ্বর লঞ্চঘাট, সুরেশ্বর দরবার শরীফ ও চন্ডীপুর বাস ষ্ট্যা, বাশতলা, সাধুর বাজার, মুলফতগঞ্জ, ও মুক্তারচর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং নড়িয়া থেকে মুলফতগঞ্জ যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই সাথে মুলফতগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি হুমকির মুখে রয়েছে। অপরদিকে ৯.৭৫ কি.মি. পদœা নদী ড্রেজিং প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৩১৬.৯০ লক্ষ টাকা। ভাঙ্গনরোধে বর্তমানে খুলনা শিপইয়ার্ড কর্তৃক জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।