নোয়াখালীতে এক নারীকে গণধর্ষণ

2
  • স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে :

নোয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভনে দলবেঁধে এক নারীকে গণধর্ষণ করেছে ৬ নরপশু। এ ঘটনায় গতকাল এক নরপশুকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। নোয়াখালী সদর উপজেলার সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নবীর হোসেন মানবজমিনকে জানান, আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নুর ইসলামের ছেলে খোকন (২০) কয়েক মাস থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর ফলকনের রতনপুর গ্রামের মেয়ে বর্তমানে রামগঞ্জ পৌরসভার কুটি বাড়ির ভাড়াটিয়া (৩৫) এর সাথে প্রেম করে আসছিল। শনিবার সে ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর আসতে বলে। ভিকটিম সন্ধ্যা ৬টায় রামগঞ্জ থেকে জননী বাসযোগে সোনাপুর আসলে খোকন ও তার বন্ধু মিজান তাকে রাত ৯টায় আন্ডারচরের একটি সুপারি বাগান বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দিগম্বর করে ফেলে। তার পর মিজান গিয়ে মো. শহিদ (৩৫), মো. সিরাজ (৩২), নুর ইসলাম (৩৫), মো. রশিদ (২৮) নিয়ে আসে। তারা পালাক্রমে ভিকটিমকে গণধর্ষণ করে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফিরলে তাকে পুনরায় একের পর এক ধর্ষণ শুরু করে। এসময় তার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা স্থানীয়রা চৌকিদার কালা মিয়ার মাধ্যমে ধর্ষিতাকে থানায় প্রেরণ করে। ধর্ষিতার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে সুধারাম থানা পুলিশ ধর্ষিতাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ২নং ওয়ার্ডের ২নং পেয়িং বেডে ভর্তি করান। সে বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডের প্রধান ডা. সালাম ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, গণধর্ষণের কারণে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, পুলিশ রিকুইজিসান দিলে তার মেডিকেল টেস্ট করা হবে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে রোববার রাতে সুধারাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে খোকন (২৮), মিজান (২৮), শহিদ (৩৫), সিরাজ (৩২), নুর ইসলাম (৩৫), রশিদ (২৮) কে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, রাতেই পুলিশ প্রধান আসামি খোকন (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

www.mzamin.com