নববর্ষে নাগরিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

1

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে সম্পূর্ণ বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ সম্পূর্ণভাবে বাঙালি সংস্কৃতি। বাঙালি যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালন করে আসছে। ধর্মের সঙ্গে এই উৎসবের কোনো বিরোধ খোঁজার চেষ্টা করা কারোর উচিত নয়। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হাতিরঝিলে গ্রান্ড মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেন অ্যান্ড এ্যাম্পিথিয়েটার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্যান্সিং ফাউন্টেন ও এ্যাম্পিথিয়েটার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, পহেলা বৈশাখ যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। পহেলা বৈশাখ হচ্ছে একমাত্র উৎসব যা সব ধর্মের মানুষ একত্রে উদযাপন করে। তিনি বলেন, মোগল আমলে সম্রাট আকবর পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু করেন। সে সময় থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কিত। এই দিনে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলার মাধ্যমে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে এবং এ উপলক্ষে দিনটিকে উৎসবে পরিণত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কোর কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। মাটি দিয়ে হাতি, ঘোড়া, থালাবাসন এবং কাগজ দিয়ে ফুল তৈরি করা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তিনি বলেন, এভাবে মানুষের বিনোদনে আজিমপুর, নিউমার্কেট ও পলাশীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য স্থানেও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ ধারায় গড়ে উঠেছে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য। ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গ্রান্ড মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেন ও এ্যাম্পিথিয়েটার হচ্ছে নগরবাসী ও দেশবাসীকে তার নববর্ষের উপহার। এই এ্যাম্পিথিয়েটার ও ড্যান্সিং ফাউন্টেনের দর্শক ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ২ হাজার। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক ও ঢাকা ওয়াসার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রকল্প পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ মাসুদ প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও এলজিআরডি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
সরকার জঙ্গিবাদবিরোধী কাউন্সেলিং প্রদানের উদ্যোগ নেবে
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিয়ের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের সকল শ্রেণি-পেশার জনগণের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মতবিনিময়কালে বলেন, সরকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথ পরিহারে অনুপ্রাণিত করতে কাউন্সেলিং প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কাউন্সেলিং-এর কাজটা যথার্থ ফলপ্রসূভাবে করার জন্য একটি প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউন্সেলিংয়ের জন্য আমরা হয়তো কিছু মানুষকে ট্রেনিং দিতে পারি, তারা কিভাবে এই কাউন্সেলিংটা করবেন। এ ব্যাপারেও আমরা উদ্যোগ নেবো। শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়ে- যাতে কেউ বিপথে গেলে তাদের যেনো সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রতি স্কুলে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলর দেয়ার একটা প্রস্তাব এসেছে। প্রতি স্কুলে হয়তো মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলর দেয়া সম্ভব নয়। তবে, আমরা ইতিমধ্যেই একটি উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা জানেন, আমি সূচনা ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশনও করেছি এবং সেখানে যারা এ ধরনের বিপথে যাচ্ছে বা যারা অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধী রয়েছে সেখানে তাদের কিছু কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে। আর সে কাউন্সেলিংয়ের জন্য আমরা হয়তো কিছু মানুষকে ট্রেনিং দিতে পারি, তারা কিভাবে এই কাউন্সেলিংটা করবেন। শুধু কাউকে কাউন্সেলিং দিলে হবে না, অভিভাবক-শিক্ষক তাদেরও এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। তাদেরও জানতে হবে। শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেবো। যাতে কেউ বিপথে গেলে তাদের যেন সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়। এটি একটি ভালো প্রস্তাব। কাজেই সব স্কুলে কাউন্সিলর দেয়া না গেলেও আমরা সকলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ ধরনের একটা উদ্যোগ নিতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার একটাই কারণ, আর সেটা হচ্ছে- একটা নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস। যে করেই হোক এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। এটা কখনো ইসলামের পথ না। ইসলাম জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস এবং নিরীহ মানুষ হত্যা করাকে কখনো সমর্থন করে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু লোকের অপকর্মের জন্য আমাদের শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম ইসলামের বদনাম হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মটাকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। কাজেই আমি এটাই আপনাদের কাছে চাইবো, যে করেই হোক এর হাত থেকে আপনাদের ছেলেপেলেদের মুক্ত রাখতে হবে। আমাদের সমাজে বিশিষ্টজনেরা আছেন, শিক্ষকরা আছেন, মসজিদের ইমামরা আছেন, ওলামায়ে কেরাম আছেন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী এবং অভিভাবক সকলকে আমি অনুরোধ রাখবো যে, কাদের ছেলেমেয়েরা এ ধরনের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, স্কুল-কলেজে কারা অনুপস্থিত রয়েছে তার যেন খোঁজখবর নেন এবং কোনোভাবেই এসব কোমলমতি যেন বিভ্রান্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি এগুলো পরিবারকে ধ্বংস করে, সমাজকে ধ্বংস করে, বাবা-মা’র জন্য একটা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সূত্র :মানবজমিন