জেদ্দার শ্রম কাউন্সেলরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রনালয়

10

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেলে কর্মরত কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাখা চেয়েছে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

গত ২২ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ের মিশণ অধিশাখার উপ সচিব সঞ্জীব কুমার দেবনাথ স্বাক্ষরিত চিঠিটি জেদ্দায় পাঠানো হয়।
মন্ত্রনালয়ের দেয়া চিঠিতে বলা হয়, জেদ্দায় কর্মরত কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেদ্দা থেকে অভিযোগের বিষয়ে মতামত পাওয়া গেছে। উক্ত মতামতে তার আচরনগত সীমাবদ্ধতা এবং কন্স্যুলেটের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও প্রবাসীদের কাংখিত সেবা প্রদানে ব্যাঘাত সৃষ্টিসহ মিশনে টীমওয়ার্ক দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ‘আপনার বিরুদ্ধে আনীত আচরনগত সীমাবদ্ধতা ও কনস্যুলেটের টীম ওয়ার্ক ব্যাহত করার অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখা পপ্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্র নালয় সুত্রে জানা গেছে, এরআগে গত ৪ জুলাই বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল জেদ্দায় কর্মরত কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয় মন্ত্রনালয় থেকে। ওই মতামতের চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরব প্রবাসী আবুল খায়ের কর্তৃক জেদ্দায় কর্মরত কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এতদসঙ্গে পাঠানো হলো। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে মতামত/মন্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

সুত্র জানায়, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এর সাথে সাক্ষাত করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। এসময় তিনি মন্ত্রীকে জেদ্দা লেবার কাউন্সেলর (শ্রম) এর বিষয়ে বলেছেন, তাকে প্রত্যাহার করার জন্য আমি নিজে মন্ত্র নালয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি। বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী শোনার পর সচিব রৌনক জাহানকে তার দফতরে ডেকে নেন। এরপর তিনি জেদ্দার বিষয়টিকে ‘গুরুত্ব’ সহকারে দেখার কথা জানান। এরপরই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে ২২ জুলাই কাউন্সেলর আমিনুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এবিষয়টির সত্যতা জানতে গতকাল সচিব রৌনক জাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে এ বিষয়ে কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলাম এর সাথে শুরু অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অস্বীকার করেন। তিনি দাবী করছেন, তার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে সব ষড়যন্ত্র। আর এসব ষড়যন্ত্রের সাথে জেদ্দা কনস্যুলেট দফতরের তারই কতিপয় কর্মকর্তা নেপথ্যে রয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান।

এর আগে জেদ্দার কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের স‌চিব এর কা‌ছে পাঠানো মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাউন্সিলর শ্রম মোঃ আমিনুল ইসলাম একজন দক্ষ, পরিশ্রমী ও উদ্যোগী কর্মকর্তা হিসেবে বিগত সময় থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন । তবে তার আচরণগত বিষয়ে বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেদ্দায় সেবা গ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাছাড়াও কনস্যুলেটে কর্মরত কর্তাকর্মচারীদের সাথে আচরণগত সীমাবদ্ধতায় অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা যায়। এবিষয়টি আমিনুল ইসলামকে অবহিত করা হয়েছে এবং নিজেকে সংশোধন করার জন্য একাধিকবার পরামর্শ ‌দেয়া হয়েছে । মতামতের ওই চিঠিতে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে একই ধরনের অভিযোগ উঠ‌তের থাকায় কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিব্রত বোধ করেন । বর্ণিত অবস্থার প্রে‌ক্ষি‌তে রাষ্ট্রদুত গোলাম মসীহ্ কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করে গতবছর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি দি‌য়ে‌ছেন তা যুক্তিযুক্ত বলে বিবেচনা করা যায়।