ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, আরো দুজন রিমান্ডে

0

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আরো দুজনকে চারদিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে মোট পাঁচজনকেই চার দিন করে রিমান্ড দিলেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি কামাল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে হাজিন করে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।’ অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সজীব কুমার মণ্ডল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন।

শুনানিতে আইনজীবী সজীব কুমার বলেন, ‘আসামিরা ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নয়। যারা আসল আসামি তারা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। আসামিরা ঘটনাস্থলে কী ঘটছে তা দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তাই আমরা তাঁদের রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করছি।’ শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেককে চার দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল  বাচ্চু (২২), মো. বাপ্পী (২৮) ও মো. শাহীনকে (২০) চার দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. জাফর (১৮) নামের একজন সিএমএম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পরই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গতকাল বাড্ডা জোনের সহকারী উপকমিশনার এলিন চৌধুরী  বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতগতিতে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ভিডিও ফুটেজ, স্কুলের শিক্ষকসহ স্থানীয়দের আমরা নজরে রেখেছি। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সবদিক বিবেচনা করে আমরা সামনে যাচ্ছি। আশা করছি, দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে।’

গত শনিবার সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডার বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে তাসলিমাকে হত্যা করে স্থানীয়রা। স্কুলটিতে নিজের চার বছরের মেয়ের ভর্তি করানোর জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তাসলিমা।

এ সময় স্কুলের গেটে তাঁর পরিচয় জানতে চান সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন অভিভাবক। পরে তাঁকে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে নিয়ে গেলে কে বা কারা এলাকায় ছড়িয়ে দেয় স্কুলে একজন ছেলেধরাকে আটক করা হয়েছে। এরপর স্থানীয় কয়েকশ মানুষ স্কুলের গেট ভেঙে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষ থেকে টেনে হিঁচড়ে এনে পেটাতে শুরু করে। পুলিশ তাসলিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তাসলিমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। রাজধানীর মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তিনি। দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। তাঁর ১১ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। ছেলেটি বাড্ডায় বাবার সঙ্গে থাকে।