এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম-ব্যাংকক-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলা

0

প্রবাসী কণ্ঠ প্রতিবেদক

মালয়েশিযা, সিং্গাপুর রুট চালু হোয়ার পর এবার চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক, ঢাকা থেকে ব্যাংকক এবং চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা রুটে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

আগামী ৩ মে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্যাংকক এবং ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট শুরু হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর পাচ তারকা হোটেল সোনারগাো এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইউএস-বাংলার এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ।

উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা থেকে ব্যাংককে সকল প্রকার ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ন্যূনতম ভাড়া ওয়ানওয়ে ১৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং রিটার্ন ২১ হাজার ৫০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংককে ন্যূনতম ভাড়া ওয়ানওয়ে ১৬ হাজার ৯৯৯ টাকা ও রিটার্ন ২৬ হাজার ৫৯৯ টাকা। আর চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার ভাড়া ওয়ানওয়ে ৬ হাজার ৩৯৯ টাকা ও রিটার্ন ১২ হাজার ১৯৯ টাকা। সপ্তাহে চার দিন চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্যাংকক ও দুদিন চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

৩ মে থেকে সোম, বুধ, শুক্র ও শনিবার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৮টায় এবং ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১০ মিনিটে। আর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ব্যাংকক থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম এবং ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে ফ্লাইট।

১৩ এপ্রিল থেকে প্রতি বৃহস্পতি ও রোববার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পৌঁছাবে। ফিরতি ফ্লাইট সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কলকাতা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে পৌঁছাবে চট্টগ্রামে।

ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মধ্যে ঢাকা-কাঠমান্ডু ছাড়াও কলকাতা, মাস্ক‍াট, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য ব্যাংককে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে পেরে ইউএস-বাংলা গর্বিত উল্লেখ করে ইমরান আসিফ বলেন, খুব শিগগিরই দোহা, গুয়াংজুসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দু’টি ড্যাশ ৮-কিউ-৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে শুরুর পর বর্তমানে তিনটি ড্যাশ ৮-কিউ-৪০০ এয়ারক্রাফট এবং তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটসহ মোট পাঁচটি এয়ারক্রাফট রয়েছে ইউএস-বাংলার বহরে। আগামী আগস্টের মধ্যে আরও একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং একটি ড্যাশ ৮-কিউ-৪০০ এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এ বছরের শেষ নাগাদ বহরে বড় এয়ারক্রাফট সংযোজনের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর মাত্র আড়াই বছরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সেক্টরে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যা বাংলাদেশের এভিযেশন সেক্টরে একটি মাইলফলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে ২শ’টির অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। একমাত্র এয়ারলাইন্স হিসেবে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে সেবা দিচ্ছে ইউএস-বাংলা।

দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর শীর্ষে থাকা ইউএস-বাংলা বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটের ৫০ শতাংশ যাত্রী এককভাবে পরিবহন করছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের মর্যাদা পেয়েছে ইউএস-বাংলা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা আন্তর্জাতিক রুটের বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য বাসা থেকে পিক-ড্রপ সার্ভিস, বিমানবন্দরে প্রবাসী সহায়তা ডেস্ক, ১০ মিনিটে লাগেজ ডেলিভারি, কম্পিউটারাইজড ডিপারচার কার্ড, সিনিয়র সিটিজেনদের ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট সুবিধা দিয়ে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলার উপ-পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) সোহাইল মজিদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পিআর) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।