এখনও যুক্তরাষ্ট্রে সাগর-রুনি হত্যার আলামত

2

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার জন্য হত্যার আলামত ডিএনএ টেস্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন মামলার (আইও) তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার সফিকুল আলম। তাই মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। হাইকোর্টের তলবে তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার সফিকুল আলম আদালতে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে সোমবার এমন তথ্য জানিয়েছেন। যেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দিন ঠিক করেছেন আদালত। এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আট বছরেও শেষ না হওয়াই হতাশা প্রকাশ করেছেন আদালত।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন। সারওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের তলবে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এমন তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার সফিকুল আলম। যেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। তাই মামলার তদন্তের কোনো রকম অগ্রগতি নেই।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী মামলার সিডিসহ তদন্ত কর্মকর্তা আজ আদালতে হাজির হন। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগ ওঠা তানভীর রহমানের নামের এক ব্যক্তির মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেয়া হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ আট বছরে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে। আদালত বলেছেন, তদন্ত শেষ হবে কবে। তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে। শুনানি নিয়ে আদালত তানভীরের ক্ষেত্রে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে রুল দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গ্রেফতারের ২৬ মাস পর জামিনে কারাগার থেকে বরে হন তানভীর রহমান। তানভীরের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। তিনি ঢাকায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে থাকেন। তানভীর রহমান ২০১২ সালের ১ অক্টোবর তার কর্মস্থল স্কলাসটিকা স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় উত্তরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। এরপর ৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি মুক্তি পান।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়াবাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় মোট আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়াবাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল, পলাশ রুদ্র পাল এবং নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনই মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হন। প্রথম পাঁচজন ও নিরাপত্তারক্ষী এনামুল এখনও এ মামলায় কারাবাস করছেন।