ইইউর চোখে বাংলাদেশে বিনিয়োগে ৫ বাধা

0

প্রবাসীকণ্ঠ : বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, সহজীকরণ, সহযোগিতা, বাস্তবায়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এখনও পিছিয়ে আছে এ দেশ। ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায় পরিবেশ নিয়ে এক সংলাপে তার এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তবে এসব বাধা গুরুতর নয় বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ‘বাংলাদেশ-ইইউ বিজনেস ক্লাইমেট’ শীর্ষক সংলাপ শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের এই অবস্থান তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইইউ বিজনেস কাউন্সিল যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৮ সদস্যের একটি দল ও পিয়েরে মায়াদুনের নেতৃত্বে ইইউর ৩৪ সদস্যের একটি দল অংশ নেয় ।

সংবাদ সম্মেলনে পিয়েরে মায়াদুন বলেন, ইইউ মনে করে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো বাণিজ্যসহায়ক পরিবেশ তৈরি না হওয়া। তার মতে, শুধু রফতানি আয় দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জিত হবে না। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ

বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও আমদানি বাড়াতে হবে।

মায়াদুন জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ শুরুর প্রক্রিয়ায় পাঁচটি বিষয়ের অভাব বড় হয়ে দেখা দেয়। প্রথমত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকায় যখন একটি আবেদন বাতিল হয়, তখন তারা জানতে পারছেন না_ কেন তা বাতিল হলো। দ্বিতীয়ত, সহজীকরণের অভাবে কাজের প্রক্রিয়া ঝামেলাপূর্ণ থাকায় উদ্দেশ্য সফল হয় না। এ ক্ষেত্রে সবার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস থাকা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সহযোগিতার অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একই বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও বিভিন্ন বিভাগের কাজের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। চতুর্থত, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায়। অনেক ভালো আইন ও নীতি থাকলেও সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা মিলছে না। পঞ্চমত, স্থানীয় কোম্পানিকে দেওয়া সুবিধার ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগে বৈষম্য দূরীকরণে ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান কোম্পানি চায় তাদের স্থানীয় কোম্পানির মতো সুবিধা দেওয়া হোক। এ বাধাগুলো দূর না হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে না।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইইউর ইস্যুভিত্তিক যৌথ কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি এগুলোর সমাধান করবেন। তাদের বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো সমস্যায় পড়বেন তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তাদের সব সময় সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

সংলাপ সফল হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউর ২৮ দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভালো। পৃথক হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও এ দেশের সম্পর্ক ভালো। দেশটিতে কোটামুক্ত ও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, এ দেশের রফতানির ৫৫ শতাংশই যায় ইইউতে। বর্তমান রফতানি ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, অচিরেই ২০০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, বৈঠকে ওষুধ, সেবা খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমদানি শুল্ক নিয়েও কথা হয়েছে। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে, তখন যেন জিএসপি-পল্গাস সুবিধা পাওয়া যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুশফেকা ইকফাত, ডবি্লউটিও সেলের ডিজি শুভাশীষ বসু, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা, অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংলাপে ইইউ দলে ছিলেন ইইউভুক্ত ৯টি দেশের মধ্যে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট, জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস হেইনরিখ প্রিঞ্জ, স্পেনের রাষ্ট্রদূত এদুয়ার্দো ডেল রোয়াসাল দ্য লেগলেসিয়া, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ইয়োহান ফ্রিসেল, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মাইকেল হিমানিটি উইনথার, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কুলেনারা, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার মার্ক ক্লেটন (অ্যাকটিং) ও ১৪টি বিজনেস ফোরামের প্রতিনিধি।