আশুলিয়ায় ৫৫ কারখানা বন্ধ, বেতন পাবে না শ্রমিকেরা

1

ঢাকা: শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আশুলিয়ার ৫৫টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারখানার মালিকেরা।

এছাড়া এই কর্মবিরতির কারণে তাদের কোনো বেতন ভাতা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

পোশাক কারখানার মালিক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিজিএমইএ ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আশুলিয়ার ৫৫টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকেরা। কোনো দাবি-দাওয়ার কারণে এই কর্মবিরতি নয়। শ্রমিকদের দিয়ে এ কর্মবিরতি করিয়েছে চক্রান্তকারী একটি মহল। দেশের এই শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে তারা।

তিনি বলেন, গত নয়দিন আগে এই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। আমরা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। তাই মালিকেরা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকেরা কারখানায় ঢুকে কার্ড পাঞ্চ করে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কোনো কাজ করে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। জিজ্ঞাসা করেছি কেন কাজ করেন না। তারা বলেছে আমরা জানি না।

বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে এই শিল্পকে অগ্নিগর্ভ অবস্থায় দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি এই শিল্পকে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

পোশাক শিল্পের কথা উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, পোশাক শিল্প অর্থনীতির লাইফ-লাইন। এই শিল্প ধ্বংস হয়ে গেলে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। অর্থনীতি ধ্বংস করাই চক্রন্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য।

পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কর্মবিরতি বাদ দিয়ে নিজ নিজ কাজ করুন। দেশের স্বার্থে উৎপাদনে আমাদের সাহায্য করুন। কর্মবিরতি পালন করলে মালিকেরা আপনাদের বেতন দিতে সক্ষম হবে না। এছাড়া আপনার লিখিতভাবে আপনাদের কোনো দাবি-দাওয়ার কথা আমাদেরকে জানাননি।

পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে নতুন আইন করে চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুখ হাসান প্রমুখ।