আরো বেশি টেস্ট খেলতে চান তামিম

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হাবিবুল বাশার ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন ২০০৮ সালেই। অবসরের পরও সাত বছর টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর আসন তার দখলেই ছিল। শনিবার ফতুল্লায় যেটি হাত বদল হয়েছে। টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান এখন তামিম ইকবাল। ফতুল্লা টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যক্তিগত সাত রান করতেই হাবিবুল বাশারকে টপকে গেছেন তামিম। ইনিংসে ১৯ রানে আউট হয়েছেন তিনি।

৩ হাজার ৩৯ রান নিয়ে টেস্টে দেশের শীর্ষ রান সংগ্রহকারী এখন তামিম। ৩ হাজার ২৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে হাবিবুল। টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৬ রান, সেঞ্চুরি ৭টি তামিমের। ওয়ানডেতে তামিমের মোট রান ৪ হাজার ৪৩৭, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৪ রান ও সর্বোচ্চ ৬টি সেঞ্চুরি রয়েছে।

আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর অগ্রজ হাবিবুলের অভিনন্দনও পেয়েছেন তামিম। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, “সুমন ভাই (হাবিবুল) ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন আমাকে অভিনন্দন জানাতে। যা আমার জন্য ভাল অনুভূতির।” হাবিবুলের রেকর্ডটা আরও আগে ভাঙা উচিত ছিল কিনা প্রশ্নে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, “আসলে সাত-আট বছর লাগছে। এই সাত-আট বছরে আমি চল্লিশটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এটা ঠিক এই রেকর্ডটি যদি আরও কয়েকটি টেস্ট ম্যাচ আগে করলে নিজের জন্যেও ভালো হতো। যারা এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছে তারা যদি রেকর্ডটি করতো তাহলে আমাদের নিজেদের মান ভালো হতো।”

তামিমের প্রশংসায় হাবিবুল বলেছিলেন, তামিম দশ হাজার রান করবে। বছরে তিন-চারটি টেস্ট খেলে দশ হাজার রান সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন টেস্ট দলের সহঅধিনায়ক। তামিম বলেন, “এটা করা কঠিন। কারণ আমরা গড়ে প্রতি বছর তিন-চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলি। সামনের দশ বছরে হয়তো আরও ৪০টি টেস্ট ম্যাচ খেলবো। যদি বছরে সাত-আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলা যায় তাহলে দশ হাজার রান করা সম্ভব। তারপরও আমার ফর্ম ও ফিটনেসের উপরও বিষয়টি নির্ভর করবে। যেভাবে এখন আমরা টেস্ট খেলছি সেভাবে দশ হাজার রান করা কঠিন।”

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে আরও বেশি ম্যাচ খেলা প্রয়োজন বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, “আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা উচিত। শুধু আমার জন্যে না। যেকোনো টপ ক্রিকেটারের জন্যেই এটা কঠিন হয়ে যাবে ৬০-৭০ ম্যাচে দশ হাজার রান করা।” একটা বড় ইনিংস খেলেন অর্জন উদযাপন করতে পারলেই খুশি হতেন চট্টলার এই ক্রিকেটার।

হাবিবুলের রেকর্ড ভাঙতে সাত-আট বছর লেগে গেলেও তামিম মনে করেন, তার রেকর্ড ভাঙতে এত সময় লাগবে না। বরং নিজের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাব্য মানুষ হিসেবে তামিম উল্লেখ করেছেন, মুমিনুলের নাম। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে রেকর্ডটা খুব বেশি দিন থাকবে। মুমিনুলের গড় দেখেন, ও যেভাবে রান করছে। আমি নিশ্চিত আমি ৩০০০ হাজার রান যত ম্যাচে করেছি আমার চেয়ে কমপক্ষে ৫-৬ ম্যাচ কমে করে ফেলা উচিত আমার মনে হয়। আসলে ও যেভাবে খেলছে আমার কাছে মনে হয়, তরুণ ক্রিকেটার কেউ না কেউ ভাঙবে। আমি হয়তো ১০ ম্যাচ আগে সুমন ভাইয়ের রেকর্ডটা ভেঙেছি, আমার রেকর্ড দেখবেন আরও ৭-৮ ম্যাচ আগে ভাঙবে।”